Service

GET CHILD CARE

কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপি (সিবিটি)

সিবিটি (CBT) কী?

সিবিটি হলো এক ধরনের টকিং থেরাপি। টকিং থেরাপিগুলো সাইকোথেরাপি নামেও পরিচিত।
বিভিন্ন দৈনন্দিন পরিস্থিতিতে আপনি কিভাবে চিন্তাভাবনা করবেন এবং আপনার ওপর নানা বিষয়ের কেমন প্রতিক্রিয়া হবে সেই বিষয়ক উপকারী কিছু পদ্ধতি শিখতে সিবিটি আপনাকে সাহায্য করে। চিন্তাভাবনা ও কাজকর্মের ধরনে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে অনেক সময় মানসিক অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হয়।
অন্যান্য কিছু টকিং থেরাপির চেয়ে সিবিটি একটু আলাদা, কারণ এতে অতীতের অভিজ্ঞতার পরিবর্তে বর্তমানের প্রতিবন্ধকতাগুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এই চিকিৎসার লক্ষ্য হচ্ছে আপনাকে নিজের চিন্তা, কাজ ও অনুভূতির মধ্যকার সম্পর্ক খুঁজে বের করার উপায় শেখানোর মাধ্যমে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি করা।
সিবিটি চলাকালে আপনার থেরাপিস্টের সহায়তায় আপনি সমস্যা সমাধানের নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করবেন এবং যাকিছু পরিবর্তন করতে চান সেসব বিষয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন। সিবিটি ফলপ্রসূ হলে তখন নিজের জীবন যে নিজের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে তা উপলব্ধি করা সহজ হয়।

সিবিটি থেকে কারা উপকৃত হতে পারেন?

অনেক মানসিক রোগের ক্ষেত্রেই সিবিটি ব্যবহারে সুফল পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • মানসিক অবসাদ উদ্বেগ, আতঙ্ক ও অমূলক ভয় – অ্যাগোরাফোবিয়া (এমন কোনো পরিস্থিতিতে আটকা পড়ার ভয় যেখান থেকে পালানোর কিংবা যেখানে সাহায্য পাওয়ার কোনো উপায় থাকবে না), সামাজিক উদ্বেগ (সামাজিক পরিস্থিতিকে ভয় করা) ও স্বাস্থ্যজনিত উদ্বেগও (অসুস্থ থাকার কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয়) এসবের অন্তর্ভুক্ত
  • খাদ্যগ্রহণে অস্বাভাবিকতা
  • অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি)
  • পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি)
  • বাইপোলার ডিজঅর্ডার এবং
  • সাইকোসিস (schizophrenia সহ)। অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও সিবিটি কাজে আসতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
  • ভাল ঘুম না হওয়া
  • মানসিক চাপ
  • ক্রোধ
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব
  • ব্যথা ও অত্যধিক ক্লান্তির মতো শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা।

সিবিটির মাধ্যমে যেকোনো বয়সের মানুষই উপকৃত হতে পারে, এমনকি ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও।
সিবিটির গুরুত্বপূ্র্ণ একটি অংশ হচ্ছে নতুন দক্ষতা অর্জন করা, কিন্তু পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নতুন কোনো উপায় মনে রাখা কিংবা চর্চা করাই যদি সম্ভব না হয় তাহলে সেসব দক্ষতা অর্জন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সিবিটি কিভাবে করা হয়?

সিবিটির ‘C’ দিয়ে বোঝায় ‘কগনিটিভ’ অর্থাৎ ‘জ্ঞানীয়’ (আপনি যা ভাববেন)

মনে কখন নেতিবাচক চিন্তাভাবনা চলছে তা ধরতে পারার পদ্ধতি আপনি সিবিটির মাধ্যমে শিখতে পারবেন। এই চিকিৎসায় নেতিবাচক এবং নিরর্থক বা অহিতকর ভাবনাকে আপনি চ্যালেঞ্জ করতে থাকবেন। এসব ভাবনার উদাহরণ হল:

  • ‘আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না’ কিংবা
  • ‘সবকিছু গুলিয়ে যাবে’।

আপনি এগুলোর পরিবর্তে মনে আরও কার্যকর ও বাস্তব ভাবনার উদ্রেক করার চেষ্টা করবেন। যেমন:

  • একথা যে সত্য তার প্রমাণ কী?’
  • এই বিষয় নিয়ে অন্য আর কোন আঙ্গিকে ভাবা যেতে পারে?’ কিংবা
  • ‘আমার অবস্থায় কোনো বন্ধু পড়লে তাকে আমি কী উপদেশ দিতাম?’

সিবিটির ‘B’ দিয়ে বোঝায় ‘বিহেভিয়ার’ অর্থাৎ ‘আচরণ’ (আপনি যা করবেন)

আপনি যা-ই করেন এবং তা যেভাবে করেন তা-ই হল আপনার আচরণ। যেসব বিষয় আপনি এড়িয়ে চলেছেন কিংবা যেসব বিষয় নিয়ে আপনার মনে ভয় রয়েছে সেসব সমস্যার সমাধান সিবিটির মাধ্যমে করা সম্ভব হতে পারে। সিবিটি চলাকালে আপনার প্রতিদিনকার কাজকর্ম আপনি ডায়েরিতে লিখে রাখতে পারবেন এবং যেসব কাজ করতে ভয় পান সেগুলো করে দেখার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারবেন। নিজের লক্ষ্য ও কাজকর্ম সম্পর্কে লিখে রাখলে, কাজ করে তাতে সফলতা প্রাপ্তির ফলে আপনার মনে তৃপ্তি আসবে এবং আপনার পক্ষে নিজের অগ্রগতির হিসাব রাখাও সুবিধা হবে।

সিবিটির ‘T’ দিয়ে বোঝায় ‘থেরাপি’ অর্থাৎ ‘চিকিৎসা’ (আপনি যা শিখবেন)

সিবিটির মাধ্যমে আপনি এমন সব নতুন দক্ষতা শিখতে পারবেন যেগুলো পরবর্তীতে ‘বাড়ির কাজ’ হিসাবে করা যাবে। সিবিটি শেষে আপনি এসবের চর্চা অব্যাহত রাখতে পারবেন, যার ফলে ভবিষ্যতে ভাল থাকার উপায় আপনার হাতের নাগালেই থাকবে।

সিবিটির বিস্তারিত বিবরণ
বড় বা জটিল কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়ে বিহ্বল হয়ে পড়ার পরিবর্তে সেটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বোঝার ক্ষেত্রে সিবিটি সহায়ক হতে পারে। এর ফলে অংশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন এবং আপনার ওপর সেগুলোর কী কী প্রভাব পড়ছে তা বোঝা সহজ হয়। এই অংশগুলো হল:

  • কোনো পরিস্থিতি – যেমন কোনো কর্মকাণ্ড কিংবা আপনার সাথে ঘটা এমন কোনো ঘটনা যা মেনে নেওয়া আপনার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়- এ থেকে আসতে পারে:
  • ভাবনা
  • আবেগ
  • দৈহিক অনুভূতি
  • কাজ

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা যেভাবে চিন্তাভাবনা করি এবং আমাদের মধ্যে বিভিন্ন পরিস্থিতির যে প্রতিক্রিয়া হয় তার ফলে আমাদের আচরণ ও আবেগ কিভাবে প্রভাবিত

উদাহরণ: পরিস্থিতি
আপনার দিনটি বেশ খারাপ কাটছে এবং আপনি বিরক্ত হয়ে গেছেন, তাই আপনি ঠিক করলেন কিছু কেনাকাটা করতে যাবেন। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আপনি দেখলেন আপনার পরিচিত কেউ পাশ দিয়েই হেঁটে গেল অথচ আপনার দিকে ভ্রুক্ষেপও করল না। এই পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া হিসাবে আপনার মনে হিতকর ভাবনারও উদয় হতে পারে, আবার অহিতকর ভাবনারও। আপনার প্রতিক্রিয়া ঠিক কী হবে তার ওপর নির্ভর করে নিচের ব্যাপারগুলো ঘটতে পারে:
এই উদাহরণটিতে দেখা গেল একই পরিস্থিতির দুটি খুবই ভিন্ন পরিণতি রয়েছে।
আমাদের যখন মনখারাপ থাকে কিংবা যখন আমরা মানসিক যন্ত্রণায় ভুগি তখন আমাদের পক্ষে সবকিছুকে উগ্র ও অহিতকর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
আপনার ভাবনা, অনুভূতি ও কাজ কিভাবে অঙ্গাঙ্গি জড়িত তা সিবিটির মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন। এর ফলে আপনি সহজেই:

  1. নিরর্থক বা অহিতকর চিন্তাভাবনা করার অভ্যাস (অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া) ত্যাগ করতে,
  2. নিরর্থক বা অহিতকর কাজকর্ম (কোনো পরিস্থিতিকে এড়িয়ে চলা)পরিত্যাগ করতে,
  3. উপকারী বা হিতকর চিন্তা ভাবনা (ইতিবাচক দিক খুঁজে বের করার চেষ্টা) করার অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং
  4. হিতকর কাজকর্ম করতে (ওপরের উদাহরণে যা ছিল একজন বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করা) শিখতে পারবেন।

আমার সিবিটি কত দিন চলবে?
সিবিটি শেষ হতে ৬ সপ্তাহ থেকে শুরু করে ৬ মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। আপনার সমস্যাটি ঠিক কী এবং আপনার ওপর সিবিটির কেমন প্রভাব পড়ছে তার ওপর নির্ভর করবে আপনার সিবিটি কত দিন চলবে।

সিবিটি-তে কী ঘটে?
প্রথম ২–৪টি সেশনব্যাপী আপনার থেরাপিস্ট আগে নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে, এই ধরনের চিকিৎসা আসলেই আপনার কাজে আসবে কিনা এবং এই পদ্ধতিতে আপনার কোনোরকম অস্বস্তি বোধ হচ্ছে কিনা। সিবিটি-তে অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্বারোপ করা না হলেও আপনার থেরাপিস্টকে কিন্তু প্রয়োজনের খাতিরে আপনার জীবন ও অতীত সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করতেই হবে। মাঝে মাঝে অতীতের কথা আলোচনা মাধ্যমেই কেবল বোঝা যায় বর্তমানে আপনার ওপর সেটির কেমন প্রভাব পড়ছে।
প্রতিটি সেশনের শুরুতেই আপনি আপনার থেরাপিস্টের সাথে কথা বলে ঠিক করে নেবেন সেই সেশনে কী নিয়ে আলোচনা করা হবে। আগের সেশনের পর থেকে আপনার সময় কেমন কেটেছে, আপনার বাড়ির কাজ কেমন হয়েছে ইত্যাদি কিংবা যেকোনো সমস্যা নিয়ে কথাবার্তা বলা একটি সেশনের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সিবিটি শেষ হওয়ার পর আপনি নিজের জন্য ‘ভাল থাকা’র একটি পরিকল্পনা তৈরি করবেন। আপনি যে যে দক্ষতা অর্জন করেছেন সেগুলো সেখানে উল্লেখ করবেন এবং ভবিষ্যতে আপনি দক্ষতাগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা কিভাবে করবেন আপনার পরিকল্পনায় আপনি সেটিও অন্তর্ভুক্ত করবেন। আর সিবিটি শেষ হওয়ার পরও আপনাকে এসব দক্ষতার অনুশীলন অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেওয়া হবে।

সিবিটি চলাকালে যা করতে হবে?
সিবিটি চলাকালীন সময় আপনার থেরাপিস্টের সহযোগিতায় আপনি ওপরের উদাহরণের মতো করে সব সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করবেন। আপনার ভাবনা, অনুভূতি ও আচরণকে লক্ষ করে আপনারা একসাথে ভেবে বের করার চেষ্টা করবেন:

  • সেগুলো অবাস্তব কিংবা অহিতকর কিনা এবং
  • সেগুলো একটির ওপর অন্যটির কী প্রভাব পড়ছে এবং আপনার ওপর সেগুলোর কী কী প্রভাব পড়ছে।
 

চিকিৎসা চলাকালে আপনাকে কিছু প্রশ্নমালা কিংবা ওয়ার্কশিট পূরণ করতে দেওয়া হবে। আপনার থেরাপিস্ট আপনাকে ডায়েরি লিখতেও বলতে পারেন। প্রতিদিন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনি কিভাবে চিন্তা করেন, আপনার মনে কী কী অনুভূতি হয় এবং আপনি কী কী কাজ করেন তা এর মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হবে। আর তারপর অপ্রীতিকর ভাবনা ও অহিতকর আচরণ পরিবর্তনের উপায় খুঁজে বের করতে আপনার থেরাপিস্ট আপনাকে সহায়তা করবেন।

আমাকে কী কী বাড়ির কাজ করতে হতে পারে?
পরিবর্তনগুলো কাজে প্রয়োগ করলে তখন সিবিটি-র কার্যকারিতা বেড়ে যায়। আপনার থেরাপিস্ট আপনাকে নিয়মিত ‘বাড়ির কাজ’ করার পরামর্শ দেবেন। দৈনন্দিন জীবনে নতুন নতুন দক্ষতার অনুশীলন করা এসব কাজের অন্তর্ভুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে আপনি যে যে বিষয়ের চর্চা করতে পারবেন তা হল:

নিজের ভাবনাকে প্রশ্ন করা – এসব ভাবনার মধ্যে রয়েছে আত্মসমালোচনা, ইতিবাচক বিষয় উপেক্ষা করা, ব্যক্তিগতভাবে অপমানিত বোধ করা ইত্যাদি। আপনি নিরর্থক বা অহিতকর চিন্তাভাবনার অভ্যাসকে বদলাতে এবং আরও হিতকর ও বাস্তব চিন্তাভাবনা করতে শিখবেন।

কাজকর্ম পুনর্বিবেচনা করা – আপনি যা করতে যাচ্ছেন তাতে আপাতত লাভ হলেও পরবর্তীতে যে তার ফলে আপনাকে আরও বেশি ভুগতে হবে তা বুঝতে শেখা। এমন কাজের উদাহরণ হল: কোনো পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা, কোনোকিছু বার বার যাচাই করে দেখা কিংবা আশ্বস্ত হওয়ার জন্য কারো কাছ থেকে বার বার নিশ্চয়তা চাওয়া। এমন কাজ করার পরিবর্তে বরং আপনি তুলনামূলক আরও হিতকর কাজকর্ম করার অভ্যাস গড়তে শিখবেন।

বিশ্বাসকে খতিয়ে দেখা – আপনি যা যা বিশ্বাস করেন তা যাচাই করে দেখা সেগুলো আসলেই সত্য কিনা। যেমন খুব ক্লান্ত ও মানসিক অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় হয়তো আপনার মনে হতে পারে প্রতিদিন ২০ মিনিট করে হাঁটতে গেলে আপনার আরও বেশি খারাপ লাগবে। সেক্ষেত্রে আপনি পরীক্ষামূলকভাবে এক সপ্তাহ হেঁটে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট ফলাফল লিখে রেখে তারপর দেখতে পারেন আপনার আন্দাজ সত্যিই ঠিক ছিল কিনা।

ঋণশোধের মতো জীবনের বাস্তব সমস্যার ক্ষেত্রেও আপনি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।
এই ‘বাড়ির কাজ’ কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিবিটি-র উদ্দেশ্য হল আপনাকে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যার পর থেকে আপনি ‘নিজে নিজেই সব করবেন’ এবং নিজের মতো করে আপনার সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবেন।

সিবিটি কতটা কার্যকর?
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্সের (NICE) মতে বেশ কয়েকটি সমস্যার ক্ষেত্রে সিবিটি-ই সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা।
উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদ – যেসব রোগের ক্ষেত্রে সমস্যার মূলে থাকে উদ্বেগ (যেমন জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার কিংবা প্যানিক ডিজঅডর্ডার) অথবা মানসিক অবসাদ সেসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতিগুলোর একটি হচ্ছে সিবিটি।
ফোবিয়া ও ওসিডি – ফোবিয়া এবং ওসিডির সবচেয়ে কার্যকর মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা হল সিবিটি।
দেখা গেছে সিবিটি শুরু করার পর চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের চার ভাগের প্রায় এক ভাগই চিকিৎসা বাদ দিয়ে দেয়। সেবাগ্রহীতা যদি মানসিক অবসাদগ্রস্ততায় ভোগে কিংবা থেরাপিস্টের উপস্থিতিতে সামনাসামনি যদি সিবিটি করা না হয় তাহলে শুরুর দিকে এভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

সামনাসামনি করা সিবিটি
এটি একক সেশনেও করা যেতে পারে, আবার দলগতভাবেও করা যেতে পারে। সামনাসামনি করা সিবিটিকে সাধারণত এই চিকিৎসাপদ্ধতিটির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসাবে গণ্য করা হয়।

ডিজিটাল সিবিটি
কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা স্মার্টফোন দিয়ে ভিডিও কল কিংবা টাইপ করে চ্যাট করার মাধ্যমে এটি করা যেতে পারে। নিচের পরিস্থিতিগুলোতে ডিজিটাল সিবিটি কাজে আসে:

  • সরাসরি সাক্ষাত করা সম্ভব না হলে, যেমন: শারীরিক অসুস্থতার জন্য
  • আপনার ওপর যদি কাউকে দেখাশোনা করার এমন কোনো দায়িত্ব থাকে যার কারণে কোথাও একা যাওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব না হয়, কিংবা
  • যেখানে সামনাসামনি সিবিটি করা হয় সেখানে যদি আপনার পক্ষে যাওয়া সম্ভব না হয়।
  • ডিজিটাল সিবিটির কার্যকারিতাও সামনাসামনি করা সিবিটির সমান হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে পার্থক্য দেখা যায় এবং কার্যকারিতার পরিমাণ সিবিটি গ্রহণকারী ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে।
 

সিবিটি কী কী ধরনের হয়?
সিবিটি নির্দিষ্ট একটি চিকিৎসার নাম নয়, বরং এক এটি এক ধরনের টকিং থেরাপির নাম। আপনার ক্ষেত্রে ঠিক কোনটিতে সবচেয়ে ভাল কাজ হবে তা নির্ভর করবে আপনি কেমন মানুষ এবং আপনি কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তার ওপর। যেমন কয়েকটি সিবিটি পদ্ধতিতে পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করতে সহায়তা করা হয়। আবার অন্যান্য পদ্ধতিতে, সরাসরি চিন্তাকে বদলানোর পরিবর্তে বরং চিন্তার ফলে মনে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াকে বদলানোর উপায় শেখানো হয়।

সিবিটি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা

সিবিটি ও এর কার্যপ্রণালী নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। সিবিটি সম্পর্কিত কয়েকটি ভ্রান্ত ধারণা ও সংশ্লিষ্ট বাস্তব তথ্য নিচে দেওয়া হল:

আমাদের রয়েছে দীর্ঘ ১০ বছরের অভিক্ষতা

আপনার শিশুর এই ধরনের
যেকোন সমস্যায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন